কথোপকথন
....................................................
ল্যাপটপে বসে ইউটিউব দেখছিলাম, একটি আমার প্রয়োজনীয় বিষয় মন দিয়ে দেখছিলাম। দু হাত দূরে আমার মেয়ে বসে ব্লক নিয়ে খেলছিল। হঠাৎ মেয়ে বলে বসল, বাবা, আমি গান শুনব, তুমি ল্যাপটপে গান চালাও। আমি মোবাইলে চালানোর কথা বললে রাজি হল না। ল্যাপটপেই চালাতে হবে।
- মা, আমি একটু কাজ করছি, একটু পরে চালাচ্ছি, তুমি তো খেলছ, খেলে নাও, আমিও কাজটি করে নি।
- না বাবা, তুমি এখনি চালাবে।
- মা, আমাকে এক মিনিট সময় দাও, তারপরেই চালাচ্ছি।
- চালাও না বাবা।
আমি খুব শান্ত ভাবে বললাম, একটু পরে চালাচ্ছি বাবা।
এবার ও রেগে গিয়ে,
- চালাবে কি চালাবে না?
আমি আবার শান্ত ভাবে, - চালাচ্ছি বাবা, একটু পরে।
ও আরও রেগে - হাতে থাকা ওর কলমটি দেখিয়ে,
- আমি কিন্তু তোমার পায়ে পেন ফুটিয়ে রক্ত বের করে দেব, চালাও বলছি, দিলাম পেন ফুটিয়ে।
এবার আমি ভিডিওটি থামিয়ে ওর দিকে শান্তভাবে তাকালাম আর বললাম,
- কি করবে মা তুমি?
- পেন ফুটিয়ে রক্ত বের করে দেব।
আমি পা বাড়িয়ে দিলাম আর শান্ত ভাবে বললাম,
- এই নাও, মা, পা দিয়েছি, তুমি পেন ফুটিয়ে দাও।
মেয়ে চুপ।
আবার বললাম,
- দাও মা, পা দিয়েছি আমি, তুমি রক্ত বের করে দাও।
মেয়ে মাথা নীচু করে নিয়েছে।
আমি আবার বললাম,
- মা, তুমি পেন ফোটাবে না?
মেয়ে চোখ তুলে তাকালো।
দু চোখে জল টলমল করছে, এই বুঝি পড়বে।
আমি কোলে তুলে নিলাম, কোলে বসিয়ে বললাম,
- বাবা, তুমি কষ্ট পেলে?
মেয়ে সম্মতি সূচক ঘাড় নাড়ল। আমি বললাম,
- তুমি বাবার পায়ে পেন ফোটালে না কেন, মা?
- তোমার ব্যথা লাগবে।
- বাবাকে ব্যথা দিতে কষ্ট হয়?
- হ্যাঁ, বাবা।
- তুমি কাঁদছ কেন?
- কাঁদছি না, বাবা। খেলছিলাম তো, চোখে কী যেন ঢুকেছে।
আমি আরও শক্ত করে মেয়েকে জড়িয়ে ধরলাম, চোখের জলটি মুছে দিয়ে বললাম, কোন গান শুনবে বাবা।
- সকালে যেটা চালিয়েছিলে, সেটা।
আমার তিন বছরের মেয়েও কষ্ট লুকোতে শিখেছে, চোখের জল লুকোতে শিখেছে, মিথ্যে বলতে শিখেছে , ঠিক যেভাবে একজন পরিণত মানুষ নিজেকে আড়াল করে, লুকিয়ে রাখে, নিয়ন্ত্রন করে।
এ এক নতুন উপলব্ধি।
আর এখন? মেয়ের সাথে ইউটিউবে ভূতের গল্প দেখছি।
No comments:
Post a Comment