Thursday, February 13, 2020

৬ টি বছর পার হল...

৬ টি বছর পার হল...

হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছ, আমাদের বিয়ের ছ'টি বছর পার হল, আজ ১৮ ই নভেম্বর,  ২০১৯। সেই কবে, ২০১৩ সালে,  আজকের দিনে আমাদের বিয়ে হয়েছিল, প্রথম দেখার প্রায় ৭ মাস পরে। আর এই দেখা আর বিয়ের মাঝের ৭ মাস, সে খুব সুখের সময় হওয়ার কথা ছিল, আমার ক্ষেত্রে হয়নি, পারিবারিক কারনে, চেনা মানুষের অচেনা আচরন, আমার সিদ্ধান্তকে সমর্থন না করা, পাশ থেকে সকলের সরে যাওয়া, বাড়ি ছেড়ে ভাড়া বাড়ি যাওয়া, একাকী জীবনযাপন, নিঃসঙ্গতা,  জীবনটিকে খুব এলোমেলো করে দিয়েছিল। আজ যখন আবার পিছনে তাকাই, খুব অবাক হই, হিসেব মেলে না, মেলাতে পারি না, আর জীবন কবেই বা আর হিসেব মেনে চলে। 

তবুও সব কিছুর মাঝে এক টুকরো আলো, খোলা হাওয়া, মন ভাল করা কথা, ভরসা দেওয়া একটি মন সর্বদা পাশে ছিল, সেই মেয়েটি। যাকে ভালোবেসেছিলাম। তখনও বিয়ে হয়নি আমাদের, কিন্তু তখন থেকেই ও আমার সর্বক্ষণের সাথী,  আমার বন্ধু, আমার ভরসা। প্রায় ৬৫ কিমি দূরে থাকলেও ও সর্বদাই আমার কাছাকাছি থাকত, এক সেকেন্ডের জন্যও ওর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হত না। 

তখন Android আমার ছিল না। কিন্তু এসএমএস আর কল প্রায় ১৮ ঘন্টা চলত। প্রথম হেডফোনের ব্যবহার সেই সময় শুরু করি, প্রথম এসএমএস প্যাক তখন নেওয়া শুরু করি আর প্রথম ভোডা টু ভোডা unlimited pack আর পরে Docomo to Docomo unlimited pack ব্যবহার শুরু করি। সে এক দারুন সময়। তখন তো আর জিও আসেনি বা Airtel ও  আজকের মত  Unlimited হয়ে যায়নি। ২৩৫ টাকায় unlimited কল ২৮ দিন। তাতেই চলত সারা দিন কথা আর অফিসে লোকজন আর কাজের মাঝে চলত SMS. 

অফিসে তো কয়েকজন বলতেই শুরু করে দিল, রবিনকে তো আগে কখনো ফোন ঘাঁটতে দেখতাম না, কী হল রবীনের, সারাক্ষণ ফোন ঘাঁটছে।  আর তখন আমার ছিল নোকিয়ার আশা 510 বা এই ধরনের কিছু একটা। মেয়েটির সাথে এক মুহূর্তের জন্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারতাম না। ভালোবাসতাম যে!! আর এখন কী ভালবাসিনা?  বলছি সে কথা। 

এই ছটি বছরে আমরা নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে গেছি, আজও যাই, হয়ত কম বেশি সকলেই যায়, যেতে হয়, তবুও ভালবাসা আজও প্রানবন্ত,  চেষ্টা করি বুঝতে, মনের অনুভূতি গুলোকে অনুধাবন করার চেষ্টা করি, তবু জানা সম্পূর্ণ হয়ে ওঠে না। হয়ত এভাবেই আমরা একে অন্যকে জানার চেষ্টা করতে করতেই অনেক বছর কাটিয়ে ফেলব। আর ভুল বোঝাবুঝি,  সে তো বোঝার চেষ্টা করার অংশ।  

আজ যখন সেই মেয়েটির কথা ভাবি, তখন মনে হয়, ওকে আরও কিছুটা যত্নে রাখা প্রয়োজন,  আর একটু সময় দেওয়া, আরও একটু যত্ন নিয়ে কথা বলা, ওর কথার প্রতি মনোযোগী হওয়া দরকার ছিল। সেই যত্নে থাকা মেয়েটি আজ কিছুটা  যেন অবহেলিত,  সংসারের নানা কাজের চাপে আর বাচ্চা সামলাতে সামলাতে মেয়েটি আর নিজের খেয়াল রাখতেই পারে না। তাই বলে ওর স্বামীর যত্নে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য নেই। নিজের শরীরের খেয়াল না রাখলেও ও আমার খুব খেয়াল রাখে, আমি বুঝি, কিন্তু প্রকাশ করি না। সেই বিয়ে হওয়ার আগের খেয়াল রাখা আর আজকের মধ্যে আমি তফাৎ দেখি না। 

আর আজকের দিনটি আমি আলাদা করে কিছুই করিনি। সত্যি বলতে কি, ১৮ তারিখ মাথায় ছিল, কিন্তু আজ যখন ঘুম থেকে উঠি, আজকের তারিখ টাই মনে ছিল না। মেয়েটি সেই কোন ভোরে উঠে সব কাজ সেরে আমাদের মেয়েকে গুছিয়ে রাখে, আর আমি বেলায় ঘুম থেকে যখন উঠলাম, মেয়েটি বলল, আজ অফিস না গেলে হয়না? আমি বললাম, সে কি করে হবে, অফিসে অনেক কাজ রয়েছে, আর আজ সোমবার, আমি কথা দিয়ে এসেছি, সোমবার আসব, তাই না গেলে হবেনা। 

মেয়েটি বলল, আগে তো এক আধ দিন অফিসে যেতে না করলে শুনতে, আর এখন অফিসে যাওয়ার এত ধুম পরে গেল যে! তুমি যে বলো, অফিসে আর কোনও কাজ নেই! আমি হেসে ফেলি আর বলি, না, আমার কাজ আছে। যাই, যেতে হবে। মেয়েটি কিছু না বলে আমার স্নানের জল,  টিফিন ইত্যাদি গোছাতে চলে গেল। 

আমিও যথারীতি অফিসে চলে এলাম। অফিসে এসে ফেসবুক খুলতেই Memory চলে এল। ব্যাস। মনটা একটু হলেও খারাপ হয়ে গেল। গত ৫ বছর প্রতিবার বাড়িতেই ছিলাম একসাথে। এবার আর হল না। আবার,  এমনিই, আজ সোমবার, আমি ব্যারাকপুর অফিস করি, নৈহাটি থাকি, কাল আবার ব্যারাকপুর,  তাই আর হবিবপুর ফিরিনা, লম্বা পথের অনেকটা দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে পারিনা, আর চাইও না। 

তাই ওকে আজ একটু যেন বেশি মিস করছি, সাথে আমদের ছোট্ট ছানা আছে একটা, ওকেও। 

যাইহোক, অনেক কথা লিখলাম। কিন্তু ফেসবুকে কেন? ফেসবুক তো আমার বৃহত্তর পরিবার, আমার সব কাছের মানুষ তো ফেসবুকেই আছে, তাই সবার সাথে ভাগ করে নেওয়া। 

আর এতক্ষণ যে মেয়েটির কথা বললাম, সে সেই মেয়েটি, যাকে ছবিতে দেখে ভালবেসেছিলাম, আর বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই প্রথম ছবিটি যদি পাই, শেয়ার করব।।

পেয়েছি, সেই প্রথম দিনের ছবি, আমাদের বিয়ের আগের। 

আর তোমাকে ভাল থেকো বলার কোনও অর্থ হয়না, বরং বলা ভাল, ভাল রাখব। তুমি তো সবাইকেই ভাল রাখার চেষ্টা কর।

No comments:

Post a Comment